জায়েদ ফরিদ।।
১
সোঁদা মাটিতে লম্বা নাক গুঁজে একা একা ঘাটে শুয়ে ছিল ডিঙি নৌকোটা। জোছনার কাঁথাটা গা থেকে একটু সরে যেতেই সজাগ হলো তার ইন্দ্রিয়। কোত্থেকে যেন ভেসে আসছে সেই হলদেবোঁটার ঘ্রাণ। ফুলটাকে সে চিনেছে মাত্র হপ্তা দুয়েক আগে।
নদী পার হতে হতে পাটাতনে একদিন নায়রি মেয়ের শাড়ি নিয়ে গল্প চলছিল। কী একটা ফুলের হলদে বোঁটা দিয়ে হাঁসের পায়ের মতো হলুদ রঙে রাঙিয়েছে তার শাড়ি। মেয়েটি বসেছিল গলুইয়ের কাছাকাছি, ডিঙিটার নাক বরাবর। একটা মন-কাড়া মিষ্টি ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ছিল তার শাড়ি থেকে।
ডিঙির খুব শখ হলো, একবার যদি সে এই ডাঙার ফুলটাকে দেখতে পেত! শাপলা কলমি আর কচুরি ফুলের হালকা জলজ গন্ধ থেকে এই ঘ্রাণটা অনেক অন্যরকম। কিন্তু জন্মের পর থেকে বিশেষ কারণ ছাড়া তার মতো জলচরদের ডাঙায় ওঠা নিষেধ। পূর্বপুরুষদের আমরণ জলে বাস করার এই দৈব-সিদ্ধান্ত ডিঙিটা কিছুতেই মেনে নিতে পারে না। প্রতিজ্ঞাটা ভেঙে ফেলতে চায় সে। কঠিন অসুখে একবার তাকে ডাঙায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল কিছুদিনের জন্য। তখন থেকেই তার মাতৃ-ডাঙার প্রতি আসক্তি।
সেদিন যাত্রীদের গল্পের মধ্যমণি ছিল একটি ফুটফুটে ছোটো মেয়ে। তার গলায় ছিল হলদেবোঁটার মালা। মালার গাঁথুনি থেকে বোঝা যাচ্ছিল, সে একজন নিপুণ মালাকার। বোঁটার রং দেখে ডিঙির মনে হলো, এই সেই হলদে বোঁটা। এদের বোঁটাই মুখ্য, ফুলটা পোশাক মাত্র। ফুলের নামটা সে কয়েকবারই শুনেছে, কিন্তু যুক্তিগ্রাহ্য হয়নি বলে মনে রাখতে পারেনি। ডিঙির কাছে সে তো কোনো সনাতন নামধারী ফুল নয়, কেবলই হলদেবোঁটা।
ছোটো একহারা ত্রিকোণ পাল তুলে এগিয়ে চলেছে ডিঙিটা। ডুবে যাওয়ার আগে হলদেবোঁটার কাঁচা রঙ নিয়ে হোলি খেলে গেছে সূর্য। পোশাকের আব্রু ভেদ করে সে রং ঢুকে পড়েছে যাত্রীদের হৃদয়ে। রঙের গাঙে এক সুস্থির যাত্রায় ভীষণভাবে মৌন হয়ে আছে যাত্রীরা। সেই স্তব্ধতা ভেঙে মালাকার মেয়েটি বলে উঠল, ‘ইস্ আমার যদি এমন একটা সুন্দর ডিঙি থাকত তবে তাকে নিয়ে কেবলই ঘুরতাম, জলে ডাঙায়, সব জায়গায়।’
এমন অদ্ভুত প্রস্তাব শুনে হাসল তার মামা, ‘বোশেখি আড়ং থেকে তোমাকে না হয় একটা চাকাওয়ালা নৌকো কিনে দেয়া যাবে, তবে এমন শক্ত সুন্দর শালডিঙি আজকাল আর তৈরি হয় না, আম বা কাঁঠালের হবে হয়তো সেটা।’
মেয়েটা দুঃখ পেল খুব, যেন পৃথিবীতে একটি মাত্র শালডিঙিই অবশিষ্ট আছে। কিন্তু এমন দুর্লভ ডিঙির সোয়ারি ভেবে বেশ গর্বিত মনে হলো নিজেকে। তীরে নেমে মিষ্টি হেসে নিজের গলা থেকে মালাটা খুলে পরিয়ে দিল শালডিঙির গলায়।
শালডিঙির মনটা কেঁদে উঠল। সারারাত ফুলের ঘ্রাণে নেশার্ত হয়ে ভাবল, কীভাবে মালাকার মেয়েটির জলে-ডাঙায় বেড়ানোর অদ্ভুত শখটা পূরণ করবে সে।
২
আজ রাতে নতুন করে হলদেবোঁটার ঘ্রাণটা তার বিগত দুঃখবোধকে জাগিয়ে তুলল। অনেক ভেবেচিন্তে শেষ রাত্রির দিকে সারাজীবন জলে বাস করার অনুশাসনটা ভেঙে ফেলল সে। হলদেবোঁটার গাছ আর মালাকারকে তার খুঁজে বের করতেই হবে। এদিক সেদিক চেয়ে সাবধানে বুক ঘষে মাটির ওপরে উঠে এল সে। ধরা পড়লে ভুতুড়ে নৌকো অপবাদ দিয়ে জ্যান্ত দগ্ধ করবে তাকে ভীতু মানুষেরা, প্রকৃতির বাদবাকি যতই তার বন্ধু হোক।
হলদেবোঁটার গন্ধ শুঁকে শুঁকে খুব সন্তর্পনে এগুচ্ছিল শালডিঙি। কিন্তু ধানখেত পাড়ি দিয়ে লোকালয়ের হালট পার হতে গিয়ে থমকে গেল সে। এক বৃদ্ধ লাঠি ঠুকে ঠুকে মসজিদে যাচ্ছে। লাঠি দিয়ে তার কোমরে একটা খোঁচা দিয়ে বিড়বিড় করে মন্তব্য করল সে, ‘এখানে আবার ডিঙি আনল কারা, আলকাতরা লাগানোর জন্য গাঙের কিনারই ভালো, হালট নয়।’
শালডিঙি ধরা পড়তে পড়তে বেঁচে গেল। ঘন ঘন নিঃশ্বাস ফেলল সে কয়েকবার। তারপর একদমে বেশখানিক দূরে গিয়ে থামল এক গৃহস্থ-বাড়ির কলাঝাড়ের পাশে। বিচিকলা গাছের পুষ্ট শরীরের ফাঁকফোঁকর দিয়ে ভেসে আসছে হলদেবোঁটার ঘ্রাণ। শালডিঙির মনটা আনচান করে উঠল। কিন্তু ঠাসবোনা নিবিড় কলাঝাড়ে মাথা ঢোকানো কঠিন। নিরুপায়ভাবে বাড়িটার চারদিকে ঘুরতে শুরু করল সে, ভেতরে ঢোকার যদি কোনো পথ পাওয়া যায়।
অর্ধেকটা ঘুরে সে আবিষ্কার করল একটি পায়ে চলা প্রবেশপথ। সরু পথটার দুপাশে পাটখড়ির বেড়া। আঁকাবাঁকা পথে ঢুকতে গিয়ে মড়মড় করে ভেঙে পড়ল ক্ষীণদেহী বেড়ার পাঁজর। ভয়ে পিছিয়ে এসে আবার অন্য পথ ধরল সে। একটু বাঁক নিতেই চোখে পড়ল একটি খিড়কি পুকুর, প্রায় ভূমি সমতলে। এবার হলদেবোঁটার একটা দমকা গন্ধ এসে লাগল তার নাকে। পুকুরের ওপারে একটি মাঝারি ঝাঁকড়া গাছ, তাতে দুধেল কুয়াশার রঙে ফুটে আছে থোকা থোকা হলদেবোঁটা।
শালডিঙি আস্তে গা ভাসাল পুকুরে। কিন্তু মাঝ বরাবর যেতে না যেতেই দেখল, কলসি কাঁখে জল নিতে আসছে এক বউ, সাথে একটি ছোটো মেয়ে। শরীরটা কাত করে, জলে কোনো ঢেউ না তুলেই তড়িঘড়ি ডুবে গেল সে। মুখটা শুধু জল-ছুঁই করে ভাসিয়ে রাখল ওপরে। কলসি ডুবিয়ে জল নিয়ে গেল বউটা।
শালডিঙি লম্বা ডুবসাঁতার দিয়ে নাক ভাসাল ওপাড়ে। ডাঙায় উঠে হাত কয়েক এগিয়ে গিয়ে থামল হলদেবোঁটা গাছটার নিচে। ভোরের ঝিরঝির হিমেল বাতাসে তার শরীরে টুপটুপ ঝরে পড়তে লাগল গন্ধ ভুরভুর হলদেবোঁটার ঝাঁক। চোখ বুঁজে পড়ে রইল সে। গলায় তার তখনো ঝুলছে মালাকারের দেয়া বাসি মালাটা।
হঠাৎ পায়ের আওয়াজ শুনে আবছা অন্ধকারে তাকিয়ে দেখল শালডিঙি, সেই ছোটো মেয়েটি ফুল কুড়োতে এসেছে। মেয়েটি ধীর পায়ে এগিয়ে এসে বলল, ‘তোমার গলায় মালা দেখে মনে হচ্ছে, তুমিই সেই নদীর ঘাটের শালডিঙি। ডিঙি ওপর-নিচ মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানাল। সেও চিনতে পেরেছে তার প্রিয় মালাকার মেয়েটিকে।
মালাকার বলল, ‘আমাকে বেড়াতে নিয়ে যাবে?’
শালডিঙি মাথা হেলিয়ে বোঝাল, ‘হ্যাঁ।’
মালাকার উদ্বিগ্ন হয়ে বলল, ‘কিন্তু এখন তো সকাল হয়ে যাচ্ছে। কেউ দেখে ফেলবে তোমাকে, তুমি বরং এই পুকুরে ডুবে থাকো। রাতে পূর্ণিমার চাঁদ উঠলে, আমি তোমাকে ডেকে নেব, ওই তো কে যেন আসছে এদিকেই, তাড়াতাড়ি জলে নামো।’
শালডিঙি দ্রুত নেমে গেল খিড়কি পুকুরের গভীরে, কারও বোঝার সাধ্য রইল না। সারাদিন ধৈর্য ধরে বদ্ধ ভারী জলে ডুবে থাকল সে।
পুকুরের জল এক সময় ঘন অন্ধকার হয়ে এল। শালডিঙি অধীর হয়ে বারবার ভেসে উঠল ওপরে কিন্তু গাছগাছালিতে ভরা খিড়কি বাগানে পূর্ণিমা চাঁদের দেখা মিলল না। প্রতিবারই তাকে ডুবে যেতে হলো, মালাকারের ডাকের অপেক্ষায়।
এশার আজান পড়েছে। আজ রাতে বাড়িতে সবাই এ-ঘরে ও-ঘরে কুটুমদের খেদমত নিয়ে ব্যস্ত। জানালার পাল্লা খুলে বাঁশঝাড়ের মাথায় চেয়ে আছে মালাকার। মাজা কাঁসার থালার মত চকচকে পূর্ণিমার চাঁদটা আজ বেশ দেরি করেই উঠল। মালাকার চুপিসারে পেছন বাড়ির পুকুরপাড়ে এসে দেখল, শালডিঙি তারই অপেক্ষায় জলের ওপর মুখ ভাসিয়ে আছে।
মালাকার ডাকল, ‘শালডিঙি, তাড়াতাড়ি উঠে এস, চলো বেরিয়ে পড়ি, এখনই সুযোগ।’
ডিঙি উঠে এল গাছের নিচে, তার গা থেকে অবিরাম ঝরে পড়ছে পুকুরের জল। সাথে আনা চটের থলে থেকে একটা গামছা বের করল মালাকার। গলুই সংলগ্ন তিনকোনা পাটাতনটা মুছে বসে পড়ল সেখানে।
৩
পুকুর পার হয়ে ইরিক্ষেতের বুক চিরে এগিয়ে চলল শালডিঙি। রিনিঝিনি নূপুর বাজিয়ে ঝিঁঝিঁরা তাদের স্বাগত জানাল। অতি উৎসুক ঝিঁঝিঁদের কেউ কেউ লাফিয়ে উঠল ডিঙিতে, যাত্রিনীকে এক ঝলক দেখে নিতে।
মালাকার থলে থেকে হালকা একটা নকশিকাঁথা বের করে গায়ে জড়িয়ে বলল, ‘শালডিঙি, ঐ যে দেখছ দূরে একা একা দাঁড়িয়ে একটি তালগাছ, ওখানেই একটু নিয়ে চলো আমাকে, সইয়ের বাড়ি।’
গাঁয়ের প্রান্তসীমায় তালগাছের নিচে ডোবার ধারে একটি কুঁড়েঘর। বেড়ার ফাঁক দিয়ে প্রদীপের আলো কেঁপে কেঁপে বেরিয়ে এসে মিশে যাচ্ছে জোছনার সাথে। একটি মেয়ে কবিতার সাথে তাদের গৃহটিকে মিলিয়ে দেখছে, বাড়ি তো নয় পাখির বাসা ভেন্না পাতার ছানি, একটুখানি বিষ্টি হলেই গড়িয়ে পড়ে পানি…। বেড়ার পাশে ডালিম গাছটি যখন কান পেতে এই কবিতা শুনছে, তখন ঘুমিয়ে আছে তার ধানভানা ক্লান্ত মা।
জানালার পাশে গিয়ে ফিসফিসিয়ে ডাকল মালাকার, ‘সই চুপিচুপি একটু বেরিয়ে আয় না।
সই উঠানে এসে জড়িয়ে ধরল তাকে, ‘কতদিন পরে এলি।’
মালাকার তাকে হাত ধরে টেনে নিয়ে বসাল ডিঙিতে, ‘চল্ সুরমাদের বাড়ি যাই, ওর খুব জ্বর।’
সই একটু আশ্চর্য হলো, ‘তোর গলায় খামচির দাগটা তো এখনও ফুটে আছে, ইশকুল ছুটির শেষ দিনে… মনে নেই?’
─ ‘হ্যাঁ মনে আছে, কিন্তু ওর যে ভীষণ অসুখ, চল্ না, যাব আর আসব।’
─ ‘কিন্তু কী করে যাব?’
─ ‘সে ব্যবস্থা না থাকলে এখানে এলাম কী করে, এই তো আমার ডিঙি!’
─ ‘তা হলে দাঁড়া, দুটো ডালিম নিয়ে আসি।’
কাঁথা জড়িয়ে মাঝ-পাটাতনে বসল দুজন।
মালাকার বলল, ‘শালডিঙি, ঐ যে দূরে লম্বা শিমুল গাছটা দেখছ, ওখানে একটু নিয়ে যাবে আমাদের?’
মাথা নাড়িয়ে রওনা হলো ডিঙি। খাল পার হয়ে চষা জমির ওপরে উঠতেই সই পেছনে তাকিয়ে আঁকড়ে ধরল মালাকারকে, ‘নৌকোর যে মাঝি নেই, আমার গা কাঁটা দিচ্ছে সই।’
শালডিঙি থেমে গেল।
─ ‘দিলি তো সব পণ্ড করে, সব নৌকোর মাঝি থাকে না, ওরা একাই চলতে পারে, ওদেরও প্রাণ আছে। দেখলি না তোর কথা শুনে কেমন থেমে গেল। শালডিঙি, তুমি বরং আস্তে যাও, সই তোমাকে বুঝতে পারেনি।’
এবার ধীর হয়ে গেল ডিঙি। শিমুল গাছের তলায় নেমে পড়ল দুজন।
খুব অবাক হলো সুরমার মা, খুশিও হলো, ‘কার সাথে এলে তোমরা?’
─ ‘আমার এক আত্মীয় দিয়ে গেছে’, বলল মালাকার, ‘আবার নিয়ে যাবে সময় মতো, সুরমা কই চাচি?’
সইদের দেখে উঠে বসল সুরমা। ডালিমের দানা মুখে দিতে দিতে খেয়াল করল, সইয়ের গলায় বিশ্রী খামচির দাগটা তখনো মরচে-লাল হয়ে আছে। চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়ল তার।
বাষ্পকণ্ঠে বলল, ‘তোর সাথে ঝগড়া হবার পরদিনই আমার জ্বর হয়েছে।’
গল্পে গল্পে সুস্থ হয়ে উঠল সুরমা।
মালাকার বলল, ‘সই, আবার দেখা হবে, রাত অনেক হলো, বাড়ি ফিরতে হবে।
সইরা চলে গেল। জানালা দিয়ে দূরে চেয়ে দেখল সুরমা, একটি নৌকো দুজন সোয়ারি নিয়ে শুকনো ধানখেতের মাঝখান দিয়ে চলে যাচ্ছে। সে তার মাকে জিজ্ঞাসা করল, ‘মা, এখন কি বর্ষাকাল?’
মা বলল, ‘জ্বরের ঘোরে মেয়ে আমার কত কি যে বলে, নে এবার একটু ঘুমো।’
তালগাছের নিচে এসে থামল শালডিঙি। মালাকার নেমে গিয়ে সইকে ঘর পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে বলল, ‘সই, এই নকশি কাঁথাটা তুই রাখ। এটা গায়ে দিলেই আমার কথা মনে পড়বে তোর, ইশকুল খুললে আবার দেখা হবে। কিন্তু শালডিঙির কথা কাউকে বলিস না, সব কথা বলতে হয় না।’
৪
নিজের বাড়ির পুকুরের অন্ধকার কোণে শালডিঙি থেকে নেমে পড়ল মালাকার। ঝাঁকড়া গাছটা নাড়া দিল সে। একরাশ হলদেবোঁটা ঝরে পড়ল শালডিঙির বুকে। ঘর থেকে কেউ হারিকেন নিয়ে এগিয়ে আসছে পুকুর ঘাটে, হয়তো তারই খোঁজে।
শালডিঙির গলা ধরে চুমু খেল মালাকার, ‘এক্ষুনি পালিয়ে যাও, পূর্ণিমা রাতে আবার কখনো দেখা হবে আমাদের।’
কুয়াশায় গা-ঢাকা দিয়ে নদীর ঘাটে আস্তানায় ফিরে এল শালডিঙি। এখনও অনেক রাত বাকি। জোছনার কাঁথা মুড়ি দিয়ে ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে পড়ল সে। শেষ রাতের দিকে গা থেকে কাঁথাটা সরে যেতেই ঘুম ভেঙে গেল তার। ভেসে এল হলদেবোঁটার ঘ্রাণ। নিজেকে মনে হলো স্বপ্নাচ্ছন্নের মতো। আমরণ জলে থাকার অসহ্য নিয়মটা ভেঙে ফেলে ডাঙায় উঠতে মন চাইল তার। কিন্তু ততক্ষণ হলদেবোঁটার রঙে ছেয়ে গেছে ভোরের আকাশ।
সজাগ হয়ে উঠল তার ইন্দ্রিয়। বুকের উপর ছড়িয়ে আছে অজস্র হলদেবোঁটা। মালাকারের কথাটা মনে হলো তার… কখনো পূর্ণিমা রাতে আবার দেখা হবে তার সাথে।
Leave a Reply